Amardesh Online......................

 Barisal Division(6)
  Barguna
  Barisal
  Bhola
  Jhalokati
  Patuakhali
  Pirojpur
 Chittagong Division(11)
  Bandarban
  Brahmanbaria
  Chandpur
  Chittagong
  Comilla
  Cox's Bazar
  Feni
  Khagrachhari
  Lakshmipur
  Noakhali
  Rangamati
 Dhaka Division(17)
  Dhaka
  Faridpur
  Gazipur
  Gopalganj
  Jamalpur
  Kishoreganj
  Madaripur
  Manikganj
  Munshiganj
  Mymensingh
  Narayanganj
  Narsingdi
  Netrokona
  Rajbari
  Shariatpur
  Sherpur
  Tangail
 Khulna Division(10)
  Bagerhat
  Chuadanga
  Jessore
  Jhenaidaha
  Khulna
  Kushtia
  Magura
  Meherpur
  Narail
  Satkhira
 Rajshahi Division(8)
  Bogra
  Joypurhat
  Naogaon
  Natore
  Nawabganj
  Pabna
  Rajshahi
  Sirajganj
 Rangpur Division(8)
  Dinajpur
  Gaibandha
  Kurigram
  Lalmonirhat
  Nilphamari
  Panchagarh
  Rangpur
  Thakurgaon
 Sylhet Division(4)
  Habiganj
  Maulvi Bazar
  Sunamganj
  Sylhet
Bandarban District (Chittagong division)
Bandarban News
এক নজরে জেলাজেলার পটভূমিভৌগলিক প্রোফাইল
শিল্প ও বাণিজ্যখেলাধূলা ও বিনোদনভাষা ও সংস্কৃতি
খনিজ সম্পদযোগাযোগ ব্যবস্থামুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
জন প্রতিনিধিউপজেলা ও ইউনিয়নজেলার উন্নয়ন তথ্যাবলী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাহাসপাতাল ও ক্লিনিকডাক্তারের তালিকা
স্বাস্থ্য কর্মসূচীহোটেল ও আবাসনদর্শনীয় স্থান
জেলার ঐতিহ্য
এক নজরে জেলা

অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য সমন্বিত সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে চলা খরস্রোতা সাংগু মাতামুহুরী নদী বিধৌত ১১টি নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি ও বাঙ্গালী অধ্যূষিত এক জনপদ বান্দরবান। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৬০ সালে রেইন অব ফ্রন্টিয়ার ট্রাইব্স এ্যাক্ট  অনুসারে বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে দক্ষিণে মায়ানমারের আরাকান রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য ভূমি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে একটি পৃথক জেলা সৃষ্টি করা হয়। ১৯০০ সালের মে মাসে ‘‘দি চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশান-১৯০০’’ প্রণয়নের মাধ্যমে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার প্রশাসনিক প্রধান নিযুক্ত করা হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে সার্কেল চীফ, মৌজা হেডম্যান, কারবারী, রোয়াজা, প্রভৃতি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সার্কেল চীফদের হাতে ন্যস্ত করা হয়।  বোমাং সার্কেলের চীফকে বোমাং চীফ নামে অভিহিত করা হয়। বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা বৃটিশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও লামা থানার  অন্তর্ভূক্ত ছিল। সার্কেল অফিসারগণ থানার প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন। ১৯৪৮ সালে বান্দরবান এবং ১৯৭১ সালে লামা থানা পর্যায়ক্রমে মহকুমায় উন্নীত হয়। ১৯৮১ সালের ১৮ এপ্রিল বান্দরবান মহকুমা ও লামা মহকুমার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠিত হয়।


Normal 0 false false false EN-US X-NONE BN-BD


এক নজরে জেলার বিভিন্ন তথ্যঃ

আয়তন /ক্ষেত্রফল

সংসদীয় এলাকার সংখ্যা

মোট লোক সংখ্যা

ভোটার সংখ্যা

শিক্ষার হার

৪৪৭৯.০৩ বর্গ কিঃমিঃ

০১ টি আসন নং ও এলাকা- ৩০০, বান্দরবান পার্বত্য জেলা

,83,000 জন, পুরুষ 2,01,000 জন,

মহিলা ,820০০ জন

2,06355 জন পুরুষ 1,06,609 জন, মহিলা 99,746 জন

43.০0%

উপজেলার সংখ্যা

থানার সংখ্যা

পৌরসভার সংখ্যা

ইউনিয়নের সংখ্যা

গ্রাম সংখ্যা/পাড়া

০৭ টি

০৭টি

০২ টি

30 টি

১৪৮২ টি

মৌজার সংখ্যা

কলেজের সংখ্যা

হাইস্কুলের সংখ্যা

মাদ্রাসার সংখ্যা

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা

৯৫টি

০৫ টি

২7 টি

০৮ টি

২১৯ টি

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্য

টেক্সটাইল ভোকেশনাল প্রেনিং ইন্সটিটিউট

শিশু একাডেমী

মসজিদের সংখ্যা

১৫০ টি

০2টি

০১টি

০১টি

297 টি

হিন্দু মন্দিরের সংখ্যা

বৌদ্ধ মন্দিরের সংখ্যা

গীর্জার সংখ্যা

মোট আবাদি জমির পরিমাণ

অর্থকরী ফসল

৩৪ টি

১৭৭টি

113 টি

,০১,১৯৩.৫০ একর

আদা, হলুদ, তিল, তুলা, আনারস, কাজুবাদাম, কমলা, কলা, কাঁঠাল, লেবু, তামাক, ইক্ষুসহ নানা প্রকার শাকসব্জি

শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

দর্শনীয় স্থানের নাম

পাকা রাস্তা

আধা পাকা রাস্তা

কাঁচা রাস্তা

০৩টিঃ ০১টি বড়, ০১টি মধ্যম এবং ০১টি কুটির শিল্প

মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক, শৈল প্রপাত, প্রান্তিক লেক, বগালেক, কেওক্রাডং, তজিংডং, মিরিঞ্জা, ঋজুক জল প্রপাত, নীলাচল পর্যটন কমপ্লেক্স, নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, ক্যওজাদি পাহাড়, নতুন ব্রীজ রীভার ভিউ, আলীর সুড়ঙ্গ, তিন্দু পাথর ছড়া, রাইংখং পুকুর

359 কিঃমিঃ

182 কিঃ মিঃ

1504 কিঃ মিঃ

জনসংখ্যার ঘনত্ব

জেলা কারাগার

বিকাশমান ক্ষেত্র

সিনেমা হল

নদ-নদী

৬৭ জন (প্রতি বর্গ কি:মি:)

০১টি

পর্যটন, বনভিত্তিক শিল্প, চা শিল্প, রাবার শিল্প, বাশঁ ভিত্তিক হস্তশিল্প,, তাঁত ভিত্তিক হস্তশিল্প, ফল ভিত্তিক শিল্প, খনিজ সম্পদ

০৫টি

০৩টি (সাংগু, মাতামুহুরী এবং বাকখালী)

স্টেডিয়াম-০১টি


এক নজরে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজাতী পরিচিতি

প্রকৃতি এবং বিচিত্র জীবন ধারা এ দুইয়ের সমাবেশে বান্দরবান জেলা। এখানে প্রকৃতি দেবী যেন অন্য একরূপে আবির্ভূত, আবার জন জীবনের বৈচিত্র এখানকার প্রকৃতির সাথে এক সুরে বাঁধ। এগারোটি নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিচিত্র জীবনযাত্রা এবং তার পাশাপাশি সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান বান্দরবানকে দেশের অন্যান্য জেলা থেকে পৃথক করে রেখেছে। এখানকার আদিবাসী মানুষের সহজ সরল জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের যান্ত্রিক জীবনে অভ্যসত্ম মানুষদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। এ জনবৈচিত্রময় জীবন ধারা এবং প্রকৃতি আমাদের দেশের একটি ঐর্শ্বয। এ ঐশ্বযের অকৃত্রিমতা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।


মারমা


বান্দরবান জেলায় বসবাসরত এগারোটি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে মারমা সম্প্রদায়ের সংখ্যাধিক্যতা দেখা যায়। মারমারা গ্রাম কে তাদের ভাষায় ‘‘রোয়া’’ বলে। ‘‘রোয়া’’ শব্দটি থেকে ‘‘রোয়াজা’’ শব্দটির উৎপত্তি। ‘‘রোয়াজা’’ অর্থ গ্রাম প্রধান। রোয়জারা বোমাং চীফ এর অধীনসত্ম থেকে মারমা সম্প্রদায়ের গোত্রীয় সমস্যা, বিচার সালিশ ইত্যাদি তত্ত্বাবধান করে। মারমা সম্প্রদায় মূলত পিতৃতান্ত্রিক, তবে পারবারিক কাজ কর্মে মাতার ভূমিকা অত্যমত্ম বেশী। মারমা পুরম্নষ লুঙ্গি এবং উর্দ্ধাঙ্গে জামা ও মাথায় ‘‘গমবং’’ নামক পাগড়ি পরিধান করে। মারমা মহিলাদের পোষাকটি কে ‘‘আঞ্জি’’ ও ‘‘থামি’’ বলা হয়। মারমা মহিলাদের কর্মঠ হিসেবে সুনাম আছে। মারমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এরা মন্দিরকে তাদের ভাষায় ‘‘ক্যাং’’ বলে। ভাত ও সবজি এবং মাছ /মাংস এদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় অমত্মর্ভূক্ত থাকে।

মারমাদের প্রধান প্রধান উৎসব

মারমাদের প্রধান প্রধান ধর্মীয় ও সামিাজিক উৎসব হচ্ছেঃ- বৌদ্ধ পূণিমা, কঠিন চিবর দান, ওয়াহ্গ্যই এবং সাংগ্রাই। মারমাদের বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান-কে সাংগ্রাই বলে।

বৌদ্ধা পূর্ণিমাঃ এই পূর্ণিমা তিথীতে মহামতি গৌতম বৌদ্ধ জন্মগ্রহণ, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এটি একটি ধর্মীয় উৎসব।

কঠিন চীবর দানঃ তুলা থেকে সুতা তৈরী করে তা রং করে এক রাতেই বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের পরিধানের চীবর তৈরী করা হয় বলে একে কঠিন চীবর বলে।

ওয়াহ্গ্যইঃ এটিও একটি ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে মারমাদের মারমারা গৌতম বৌদ্ধদের মহা চুলকে পূজা ও উৎসর্গ করার জন্য ফানুষবাতি উড়ানো হয়।

সাংগ্রাইঃ সাংগ্রাই একটি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এসময় মারমাদের ঘরে ঘরে পিঠা উৎসবের ধূম পড়ে।

সাংগ্রাই (বর্ষবরণ উৎসব)

 


ম্রো/মুরং

 


ম্রো পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বপ্রাচীন জাতি এবং বান্দরবান জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি। ম্রোদের আদি নিবাস মায়নামারের আরাকান রাজ্য। আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিঃ অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৫৯২ বছর আগে ম্রোরা বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম, থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। ম্রোরা মূলতঃ প্রকৃতি পূজারী হলেও অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তবে কয়েক বছর আগে ম্রোদের মধ্যে একটা নতুন ধর্ম ‘ক্রামা’ আর্বিভাবের ফলে বর্তমানে ম্রোদের একটি অংশ ক্রামা ধর্মের অনুসারি





সামাজিক উৎসবঃ গো হত্যা ম্রোদের সবচেয়ে বৃহৎ সামাজিক উৎসব। সাধারণত যখন জুমের ফসলাদি উত্তোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে তখন ম্রোরা গো হত্যা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


নৃত্যগীতঃ ম্রো সমাজে নৃত্যগীতের প্রচলন রয়েছে। ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রধানত আট ধরনের নৃত্যগীত রয়েছে। যেমনঃ

* চিয়াসদ পাই (গো-হত্যা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নৃত্য)

* চাকলু পাই (শিকারী জন্তুর মুন্ড নৃত্য)

* হিয়ারেং পাই (যুদ্ধের নৃত্য-গীতি)

* মাকং পাই (মৃতের আত্মার সন্তুষ্টি বিধান কল্পে নৃত্য)

* তাংসাক পাই (অশুভ অপদেবতার কৃ-দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার

উদ্দেশ্যে নৃত-গীতি)

* ওয়াক পাই (মৃতের জন্য নৃত্য-গীতি)

* ওয়াং ফাউ (বৃষ্টির আহবানে গীতি-নাট্যের নৃত্য)

* চাঁম পাই (জুমের অপদেবতার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নৃত্য-গীতি)

সামাজিক রীতিঃ ম্রো সমাজ ব্যবস্থায় দেখা যায় যে, প্রত্যেক ম্রো-কে কানে ছিদ্র করতে হয়। সাধারণত তিন বছর বয়সে এই কান ছিদ্র করা হয়। সাধারণত কোন পূজা ব্যতীত ম্রো সমাজে মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। ম্রো সমাজের রীতি হিসাবে প্রত্যেক অবিবাহিত ম্রো ছেলে-মেয়ে দাঁত কালো রাখত। যদিও বর্তমানে এই রীতি অনেকাংশে লোপ পেয়েছে।

 


ত্রিপুরা



পার্বত্য চট্টগ্রামের তৃতীয় বৃহত্তম জাতি হচ্ছে ত্রিপুরা। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বান্দরবান জেলায় উপজাতি জনগোষ্ঠীদের মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে ৩য় স্থানে রয়েছে। ত্রিপুরারা রাংঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, মীরের সরাই, কক্সবাজারের চকরিয়া, কুমিলস্নার ময়নামতি ও লালমাই এবং চাঁদপুরে বসবাস করে। তবে সবচাইতে খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরারা বেশী বসবাস করে। ত্রিপুরাদের আদিনিবাস ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। ত্রিপুরারা কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্টসহ সনাতন ধর্মের অনুসারি। তবে ত্রিপুরাদের একটা অংশ খৃষ্টান ধর্ম পালন করে।

ত্রিপুরাদের প্রধান প্রধান উৎসবঃ

বৈসুকঃ বৈসুক হচ্ছে বর্ষবরণ ও বর্ষ বিদায় উৎসব। তিন ধরে এ উৎসব পালিত হয়।

তাছাড়াও দূর্গাপূজা, লক্ষ্মি পূজা, কালি পূজাসহ আরও কিছু ধর্মীয় উৎসব এবং নতুন ফসল ঘরে উঠলে নবান্ন উৎসবও পালন করা হয়।




বোতল নৃত্যঃ পায়ের নীচে কলস এবং মাথার উপর একটি বোতল দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে বাদ্যের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। ইহা ত্রিপুরাদের একটি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য।

 


বম


‘বম’ শব্দটির অর্থ হলো ‘‘বন্ধন’’ একত্রিভূত বা একই শ্রেণীভূক্ত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোত্র গোষ্ঠী, যাদের জীবন-প্রবাহ অর্থাৎ আচার-অনুষ্ঠান রীতি-নীতি, আহার-পানীয়, সঙ্গতি, নৃত্য ও পূজা-পার্বন ইত্যাদি প্রায়ই এক রূপ-সেই সব গোত্র বা গোষ্ঠী অখন্ডভাবে বা একটি সমষ্টিগত এককরূপে আখ্যায়িত করার ফলে ‘বম’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণ করা হয়। বান্দরবান সদর, রম্নমা, থানছি, রোয়াংছড়ি এবং রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি অঞ্চলে বমরা বসবাস করে।

 


তঞ্চঙ্গ্যাঃ-




পার্বত্য চট্টগ্রামের পঞ্চম বৃহত্তম সম্প্রদায় হচ্ছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়। এরা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান চট্টগ্রামের রইস্যাবিলি এলাকায়, কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফ অঞ্চলে বসবাস করে। তঞ্চঙ্গ্যারা বৌদ্ধ ধর্মাবল্বী।

ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবঃ ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছেঃ-

* বৈশাখী পূর্ণিমাঃ বোধিসত্ত্ব সিদ্ধার্থের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও বুদ্ধের মহাপরিনির্বিাণ দিবস বৈশাখী পূর্ণিমা সব চাইতে গুরম্নত্বপূর্ণ উৎসব।

* আষাঢ়ী পূর্ণিমাঃ বোধিসত্ত্বের মাতৃজঠর আর্বিভাব, গৃহ-ত্যাগ এবং ধর্ম চক্র প্রবর্তন তিথি।

* আশ্বিনী পূর্ণিমাঃ বর্ষবাসের সমাপ্তি

* বিসুঃ বর্ষ বিদায় এবং বর্ষ বরণ উৎসব। তিন দিন ধরে এই উৎসব পালন করা হয। এই বিসু উৎসবে বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরীকৃত নিরামিষ তরকারি ‘পাঁচন’ এবং বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাদ্য পরিবেশন করা হয়।

 

 


পাংকোন (লুসাই)



মিজোরামের লুসাই পাহাড় এলাকায় মূল জনগোষ্ঠীর বসবাস। লুসাই পাহাড়ের নামে তাদের নাম করণ করা হয়েছে। প্রায় ১৮৮০ সালের দিকে লুসাইরা কর্ণফুলী নদী দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় প্রবেশ করে। লুসাইদের পোষাক পরিচ্ছদ বেশ কারম্নকার্যময়। তারা খৃষ্ঠান ধর্মাবলম্বী। লুসাইরা আধুনিক জীবন যাপনে অভ্যসত্ম। বান্দরবানের রম্নমা এবং সদর উপজেলায় লুসাইরা বসবাস করে। বর্তমানে লুসাই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা-২৯৩ জন।

 


চাক

 





পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্রতম অধিবাসী হচ্ছে ‘চাক’। জনসংখ্যার দিক পার্বত্য এলাকার অষ্টম। এই চাক নৃ-গোষ্ঠী বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী, বাকখালি, আলেক্ষ্যং ও দোছড়ি এলাকায় বসবাস করে। চাকরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

ধর্মীয় উৎসবঃ

* কাছুং লাব্রে বা বুদ্ধ পূর্ণিমা

* ওযাক্যেয়েত বা আশ্বিনী পূর্ণিমা

* ওয়া-উ বা ওয়াছো বা আষাঢ়ী পূর্ণিমা

* তেংছুংমুন বা অগ্রহায়ণ পূর্ণিমা

সামাজিক উৎসবঃ

* সাংগ্রাইনঃ পুরাতন বর্ষ বিদায় এবং নতুন বর্ষ বরণ। পাঁচ দিন ব্যাপী এই উৎসব চাকরা পালন করে থাকে।

* প্রথম দিবসঃ পেন্ছোয়েত বা ফুল দিবস।

* দ্বতীয় দিবসঃ আক্রো বা পুরাতন বর্ষ বিদায়।

* তৃতীয় দিবসঃ আক্যাহ্ বা ববর্ষ বরণ।

* চতুর্থ দিবসঃ আচদাক্ বা শুদ্ধ দিবস।

* পঞ্চম দিবসঃ আপ্যাইন বা সমাপনী দিবস। বছরের শেষ দিন ভোরে চন্দন কাঠের পানি দিয়ে বুদ্ধকেস্নান করিয়ে পুরাতন বর্ষকে বিদায় জানানো হয়। বছরের প্রথম দিন অনুরূপ চন্দন কাঠের পানি দিয়ে বুদ্ধকেস্নান করিয়ে নতুন বর্ষ বরণ করা হয় এবং সন্ধায় নতুন বছরের সুখ, শামিত্ম ও জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে একটা বিশেষ পাত্রে রতি সোন-রূপা পানি দিয়ে মাথার চুল ধোয়ানো হয়। এই অনুষ্ঠানকে চাক ভাষায় বলা হয় ‘আহু কাজেত্মাংগ্লা’।

 


খিয়াং



খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের নবম বৃহত্তম সম্প্রদায়। এরা বান্দরবান পার্বত্য রাঙ্গামাটি এলাকায় বসবাস করে। খিয়াংরা নিজেদেরকে ‘হিয়াউ’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। রাঙ্গামাটিতে বসবাসরত খিয়াংদের অধিকাংশই খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তবে বান্দরবানে বসবাসরত খিয়াংরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

 


চাকমা




চাকমা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সর্ব বৃহৎ সম্প্রদায়। মূলতঃ রাঙ্গামাটি অঞ্চলে চাকমারা বেশী বসবাস করে। তবে এরা বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতেও বসবাস করে। চাকমাদের সামাজিক প্রধান হচ্ছে রাজা। এরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

 


খুমি




খুমীদের মুল জনগোষ্ঠীর বসবাস মায়ানমারে। গোষ্ঠীগত দাংগার কারণে খুমীদের একটি অংশ মায়ানামার হতে পালিয়ে এসে বান্দরবানের গহিন অরণ্যে বসবাস করতে শুরম্ন করে। তারা সাধারণত প্রকৃতি পূজারী। জুম চাষই তাদের প্রধান জীবিকা।

 


পাংখো




পাংখো হচ্ছে বান্দরবানের সবচেয়ে ছোট উপজাতীয় গোষ্ঠী। পাংখোরা বান্দরবানের রম্নমা উপজেলায় বসবাস করে। তারা খৃষ্ঠান ধর্মাবলম্বী। পাংখো মেয়েরা পিতলের তৈরী বিভিন্ন ধরণের কটিবদ্ধ অলংকার ব্যবহার করে।

 

 


অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য সমন্বিত সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে চলা খরস্রোতা সাংগু মাতামুহুরী নদী বিধৌত ১১টি নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি ও বাঙ্গালী অধ্যুসিত এক জনপদ বান্দরবান। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৬০ সালে রেইন অব ফ্রন্টিয়ার ট্রাইব্স এ্যাক্ট অনুসারে বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে দক্ষিণে মায়ানমারের আরাকান রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য ভূমি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে একটি পৃথক জেলা সৃষ্টি করা হয়। ১৯০০ সালের মে মাসে ‘‘দি চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশান-১৯০০’’ প্রণয়নের মাধ্যমে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার প্রশাসনিক প্রধান নিযুক্ত করা হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে সার্কেল চীফ, মৌজা হেডম্যান, কারবারী, রোয়াজা, প্রভৃতি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সার্কেল চীফদের হাতে ন্যস্ত করা হয়। বোমাং সার্কেলের চীফকে বোমাং চীফ নামে অভিহিত করা হয় বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা বৃটিশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও লামা থানার অন্তর্ভূক্ত ছিল। সার্কেল অফিসারগণ থানার প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন। ১৯৪৮ সালে বান্দরবান এবং ১৯৭১ সালে লামা থানা পর্যায়ক্রমে মহকুমায় উন্নীত হয়। ১৯৮১ সালের ১৮ এপ্রিল বান্দরবান মহকুমা ও লামা মহকুমার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠিত হয়।


এক নজরে জেলার বিভিন্ন তথ্যঃ

০১. আয়তন ঃ ৪৪৭৯.০৩ বর্গ কিঃমিঃ

০২. সংসদীয় এলাকার সংখ্যা ঃ ০১ টি। নাম ও এলাকা- ৩০০, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

০৩. মোট লোক সংখ্যা ঃ ৩,০০,৭৪০ জন। পুরুষ ১,৬৩,৫৪০ জন, মহিলা ১,৩৭,২০০ জন

০৪. ভোটার সংখ্যা ঃ ১,৭৪,৩৫৯ জন। পুরুষ ৯২,৪১৭ জন, মহিলা ৮১,৯৪২ জন।

০৫. শিক্ষার হার ৪১.০৬%

০৬. উপজেলার সংখ্যা ০৭ টি

০৭. পৌরসভার সংখ্যা ০২ টি

০৮. ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ২৯ টি

০৯. গ্রাম সংখ্যা/পাড়া ১৪৮২ টি

১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ০০ টি

১১. কলেজের সংখ্যা ০৪ টি

১২. হাইস্কুলের সংখ্যা ২৪ টি

১৩. মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫ টি

১৪. সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১৯ টি

১৫ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫০ টি

১৬. মসজিদের সংখ্যা ২৯৭ টি

১৭. হিন্দু মন্দিরের সংখ্যা ৩১ টি

১৮. বৌদ্ধ মন্দিরের সংখ্যা ১৭৬টি

১৯. গীর্জার সংখ্যা ১১৩ টি

২০. মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১,০১,১৯৩.৫০ একর

২১. অর্থকরী ফসল কি কি ঃ আনারস, কলা, কাঁঠাল, আদা, লেবু, তামাক, শাকসব্জি।

২২. শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ঃ ০৩টি, ০১টি বড়, ০১টি মধ্যম এবং ০১টি কুটির শিল্প।

২৩. দর্শনীয় স্থানের নাম ঃ মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক, শৈল প্রপাত, প্রান্তিক লেক,

বগালেক, ক্রেওক্রাডং, তজিংডং, মিরিঞ্জা, ঋজুক জল প্রপাত, নীলাচল পর্যটন কমপ্লেক্স।

২৪. পাকা রাস্তা ২১২ কিঃমিঃ

২৫. আধা পাকা রাস্তা ১৩৬৭ কিঃ মিঃ

২৬। কাচা রাস্তা ১৩৭ কিঃ মিঃ

অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য সমন্বিত সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে চলা খরস্রোতা সাংগু মাতামুহুরী নদী বিধৌত ১১টি নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি ও বাঙ্গালী অধ্যুসিত এক জনপদ বান্দরবান। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৬০ সালে রেইন অব ফ্রন্টিয়ার ট্রাইব্স এ্যাক্ট অনুসারে বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে দক্ষিণে মায়ানমারের আরাকান রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য ভূমি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে একটি পৃথক জেলা সৃষ্টি করা হয়। ১৯০০ সালের মে মাসে ‘‘দি চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশান-১৯০০’’ প্রণয়নের মাধ্যমে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার প্রশাসনিক প্রধান নিযুক্ত করা হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে সার্কেল চীফ, মৌজা হেডম্যান, কারবারী, রোয়াজা, প্রভৃতি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সার্কেল চীফদের হাতে ন্যস্ত করা হয়। বোমাং সার্কেলের চীফকে বোমাং চীফ নামে অভিহিত করা হয় বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা বৃটিশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও লামা থানার অন্তর্ভূক্ত ছিল। সার্কেল অফিসারগণ থানার প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন। ১৯৪৮ সালে বান্দরবান এবং ১৯৭১ সালে লামা থানা পর্যায়ক্রমে মহকুমায় উন্নীত হয়। ১৯৮১ সালের ১৮ এপ্রিল বান্দরবান মহকুমা ও লামা মহকুমার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠিত হয়।

এক নজরে জেলার বিভিন্ন তথ্যঃ

০১. আয়তন ঃ ৪৪৭৯.০৩ বর্গ কিঃমিঃ

০২. সংসদীয় এলাকার সংখ্যা ঃ ০১ টি। নাম ও এলাকা- ৩০০, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

০৩. মোট লোক সংখ্যা ঃ ৩,০০,৭৪০ জন। পুরুষ ১,৬৩,৫৪০ জন, মহিলা ১,৩৭,২০০ জন

০৪. ভোটার সংখ্যা ঃ ১,৭৪,৩৫৯ জন। পুরুষ ৯২,৪১৭ জন, মহিলা ৮১,৯৪২ জন।

০৫. শিক্ষার হার ৪১.০৬%

০৬. উপজেলার সংখ্যা ০৭ টি

০৭. পৌরসভার সংখ্যা ০২ টি

০৮. ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ২৯ টি

০৯. গ্রাম সংখ্যা/পাড়া ১৪৮২ টি

১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ০০ টি

১১. কলেজের সংখ্যা ০৪ টি

১২. হাইস্কুলের সংখ্যা ২৪ টি

১৩. মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫ টি

১৪. সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১৯ টি

১৫ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫০ টি

১৬. মসজিদের সংখ্যা ২৯৭ টি

১৭. হিন্দু মন্দিরের সংখ্যা ৩১ টি

১৮. বৌদ্ধ মন্দিরের সংখ্যা ১৭৬টি

১৯. গীর্জার সংখ্যা ১১৩ টি

২০. মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১,০১,১৯৩.৫০ একর

২১. অর্থকরী ফসল কি কি ঃ আনারস, কলা, কাঁঠাল, আদা, লেবু, তামাক, শাকসব্জি।

২২. শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ঃ ০৩টি, ০১টি বড়, ০১টি মধ্যম এবং ০১টি কুটির শিল্প।

২৩. দর্শনীয় স্থানের নাম ঃ মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক, শৈল প্রপাত, প্রান্তিক লেক,

বগালেক, ক্রেওক্রাডং, তজিংডং, মিরিঞ্জা, ঋজুক জল প্রপাত, নীলাচল পর্যটন কমপ্লেক্স।

২৪. পাকা রাস্তা ২১২ কিঃমিঃ

২৫. আধা পাকা রাস্তা ১৩৬৭ কিঃ মিঃ

২৬। কাচা রাস্তা ১৩৭ কিঃ মিঃ

Information Source



Bangladeshi Stamps
Copyright © 2005-2009 Amardesh Online