|
| ১০ জুলাই: মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে-- শালদা নদী এলাকায় মঈনপুর নামক স্থানে সুবেদার আবদুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্যবোঝাই একটি স্পিডবোটকে অ্যামবুশ করে। এই অ্যামবুশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুইজন লে. কর্নেল, দুইজন মেজর, তিনজন ক্যাপ্টেন, একজন নায়েব সুবেদার, তিনজন সিপাহি ও একজন অবাঙালি ব্যবসায়ী নিহত হয়। 'কুমিল্লায় জল্লাদ' হিসেবে পরিচিত ক্যাপ্টেন বোখারীও এ আক্রমণে নিহত হয়। অ্যামবুশ-দল একটি ম্যাপ (শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত), একটি ওয়্যারলেস সেট ও কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। পরে পাকিস্তানি বাহিনী এলাকায় ঘোষণা করে_যে লোক সুবেদার ওয়াহাবের লাশ নিয়ে আসবে, তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে।
- শালদা নদীর কাছে মুক্তিবাহিনীর সাগরতলা অবস্থানের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা মর্টার ও মেশিনগানের সাহায্যে পাল্টা আক্রমণ চালালে হানাদার বাহিনীর ৩০-৪০ সৈন্য হতাহত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলির মুখে পাকিস্তানি সেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে শালদা নদী অবস্থানে ফিরে যায়।
- ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর একদল গেরিলা ধানমণ্ডির ২ নম্বর সড়কের মোড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর টহল পুলিশের একটি গাড়ির ওপর গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে একজন অফিসারসহ পাঁচ পাকিস্তানি পুলিশ নিহত হয়।
- নওগাঁয় মকাই চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদল মধইল নামক স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে ছয় পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয় ও মুক্তিযোদ্ধারা কিছু হালকা অস্ত্র দখল করেন।
- নয়াদিলি্লতে কানাডার পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বাংলাদেশ ও শরণার্থী প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করে।
- পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তানি কমান্ডার লে. জেনারেল এ এম কে নিয়াজি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থানগুলো পরিদর্শন করেন। সেখানকার সামরিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় শান্তি কমিটির দালালরা নিয়াজিকে আশ্বস্ত করে, চট্টগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের আক্রমণের সব স্থল ও নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দুষ্কৃতকারীদের সম্পূর্ণরূপে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
|